Skip to main content

দণ্ডবিধির আঘাত সম্পর্কিত কয়েকটি ধারার ব্যাখ্যা নিম্নে দেওয়া হলো

ধারা ৩২৬ (ক) স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুটি চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুটির দৃষ্টির নষ্টকরণ বা মুখমন্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ


ধারা ৩২৩ স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানে শাস্তি


যে ব্যক্তি, ৩৩৪ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে, সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারদন্ডে যাহার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদন্ডে যাহার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হইতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।


ধারা ৩২৪ স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে আঘাত দান করা


যে ব্যক্তি, ৩৩৪ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে, গুলী ছুঁড়িবার, ছুরিকাঘাত করিবার বা কর্তন করিবার যেকোন যন্ত্র, অথবা অন্য যেকোন যন্ত্র, যাহার ব্যবহারে মৃত্যু ঘটাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, অথবা অগ্নি বা উত্তপ্ত বস্তু কিংবা যেকোন বিষ দ্রব্য যাহা নিংশ্বাসের সহিত গ্রহণ করা, গলাধঃকরণ করা বা রক্তে গ্রহণ করা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর, অথবা যেকোন প্রাণীর সাহায্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করে, সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে-যাহার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হইতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।


ধারা ৩২৫ স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত প্রদানের শাস্তি


যে ব্যক্তি, ৩৩৪ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত প্রদান করে, সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে- যাহার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হইতে পারে- দন্ডিত হইবে এবং তদুপরি অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবে।


ধারা ৩২৬ স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করা


যে ব্যক্তি, ৩৩৫ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে গুলী ছুড়িবার, ছুরিকাঘাত করিবার বা কর্তন করিবার যে কোন যন্ত্র, অথবা অন্য যেকোন যন্ত্র, অথবা অন্য যেকোন যন্ত্র ব্যবহারে মৃত্যু ঘটাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, অথবা অগ্নি বা কোন উত্তপ্ত বস্তু কিংবা যেকোন বিষ, অথবা কোন ক্ষয়কারক পদার্থ, অথবা কোন বিষ্ফোরক দ্রব্য কিংবা এইরূপ কোন দ্রব্য যাহা নিংশ্বাসের সহিত গ্রহণ করা, গলাধঃকরণ করা বা রক্তে গ্রহণ করা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকারক, অথবা যেকোন প্রাণীর স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত প্রদান করে, সেই ব্যক্তি কারাদন্ডে অথবা যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে- যাহার মেয়াদ দশ বছর পর্যন্ত হইতে পারে, দন্ডিত হইবে এবং তদুপরি অর্থদন্ডে ও দন্ডনীয় হইবে।


ধারা ৩২৬ (ক) স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুটি চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুটির দৃষ্টির নষ্টকরণ বা মুখমন্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ


যে ব্যক্তি, ৩৩৫ ধারায় বিধানকৃত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণিতভাবে-


ক) ৩২০ ধারায় দ্বিতীয়তভাবে বর্ণিত অপরাধ যখন উভয় চক্ষুর ব্যাপারে হয় উৎপাটন দ্বারা বা যেকোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা অথবা


খ) ৩২০ ধারার ষষ্ঠতভাবে বর্ণিত অপরাধ যখন কোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা,


কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করে, তাহাকে মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের এবং জরিমানার শাস্তি প্রদান করা হইবে।

Comments

Popular posts from this blog

যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০

ধারাঃ ৩। যৌতুক আদান প্রদানের শাস্তিঃ এই আইনের কার্যকারিতা শুরু হইবার পর হইতে যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান করে কিংবা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে সহায়তা করে তাহা হইলে সেই ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং এক বছরের কম মেয়াদের নহে, অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। ধারাঃ ৪। যৌতুক দাবী করার শাস্তিঃ এই আইনের কার্যকারিতা শুরু হইবার পর হইতে যদি কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতা বা অভিভাবকের নিকট হইতে যৌতুক দাবি করে, তাহা হইলে সে পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং এক বছরের কম মেয়াদের নহে, অথবা কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। ধারাঃ ৫। যৌতুক আদান প্রদানের চুক্তি বাতিলঃযৌতুক  আদান বা প্রদানের যে কোন প্রকার চুক্তি অবৈধ হইবে। ধারাঃ ৭। অপরাধের আমলযোগ্যতাঃ ১৮৯৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধিতে (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন) যাহাই থাকুক না কেন- (ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নতর কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিতে পারিবেন না; (খ) অপরাধের তারিখ হইতে এক বৎসরের মধ্যে অভিযোগ আনায়ন করা ব্যতীত কোন আদালত এইরূপ অপরাধ আমলে আ...

পুলিশ গাড়ি আটক করলে কী করণীয় ?

মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে- অনেকেই আছেন যারা ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকালে বিরক্ত বোধ করেন বা মাথা গরম করে ফেলেন। এটা করা অনুচিত নয়। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি এবং ড্রাইভারের কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা তা প্রয়োজনবোধে চেকিং করার ক্ষমতা রাখেন। অনেকে গাড়ি আটক করলে বা পুলিশ চেকিং এর জন্য থামালে ঘাবড়ে যান। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। পুলিশ যেসব কাগজপত্র দেখতে চায় সেসব কাগজপত্র দেখান। তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন এবং সহযোগিতা করুন। মামলার রসিদ বুঝে নিন- আপনার গাড়ির কাগজপত্র কোন সমস্যা থাকলে বা ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পুলিশ আপনার গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করে রেখে দিবেন। এবং আপনাকে একটি মামলার রসিদ দেয়া হবে। মামলার রসিদের সবকিছু ভালোভাবে বুঝে নিন। কোন কারণে মামলা দেয়া হলো। কত টাকার মামলা দেয়া হলো। কে মামলা দিলো, কোথায় জরিমানা প্রদান করতে হবে। এই সবকিছুই জরিমানা বা মামলার রসিদে উল্লেখ করা আছে কিনা দেখে নিন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ অফিসে যোগাযোগ- মামলা প্রদানের সময় জরিমানার যে রশিদ দেয়া হয়, সেই রশিদের মধ্যে লিখা থাকে কবে কোথায় গিয়ে জরিমানা প্রদান করে জব্দ করা কাগজ ছাড়িয়ে আনতে হয়। রশিদে উল্লেখিত তারিখ সময় এবং অফি...

মেঝে ও খাটের আইনি লড়াই শেষ

শহিদুল আলম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এ বছরের ৫ আগস্ট। প্রথমে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রথম শ্রেণির বন্দিসুবিধা দেয়নি ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের তিন মাননীয় বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে একটা গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই শেষ হয়েছে। রায় হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের পক্ষে। উচ্চতম আদালতের রায় বা সেই আদালতে আইনি লড়াই মোটেই হাসি-তামাশার ব্যাপার নয়। উচ্চ আদালতে কঠিন ও জটিল আইনি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও সুরাহা হয়। তবে সব সময় এই আইনি লড়াইগুলোকে খুব সিরিয়াসলি নিলে আইন রসকষবিহীন শুষ্ক ব্যাপারে পরিণত হতে পারে। আইনের ছাত্রছাত্রী ও তরুণ আইনজীবীরা ভয়ে আইন পেশা থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। তবে বলা বাহুল্য, আইন নাচ-গানে ভরপুর ঢালিউডের সিনেমার মতো উপভোগ্য কোনো ব্যাপার নিশ্চয়ই নয়। তাই আইন নিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু হাসি-তামাশার দরকার আছে। সেই উপলব্ধি থেকেই আজকের এই রম্য বয়ান। আলোকচিত্রী কারাবন্দী শহিদুল আলম কারাগারের মেঝেতে ঘুমাবেন, না খাটে ঘুমাবেন—এ নিয়ে বিরাট আইনি লড়াই। আগ...