Skip to main content

পুলিশ গাড়ি আটক করলে কী করণীয় ?

মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে-
অনেকেই আছেন যারা ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকালে বিরক্ত বোধ করেন বা মাথা গরম করে ফেলেন। এটা করা অনুচিত নয়। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি এবং ড্রাইভারের কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা তা প্রয়োজনবোধে চেকিং করার ক্ষমতা রাখেন। অনেকে গাড়ি আটক করলে বা পুলিশ চেকিং এর জন্য থামালে ঘাবড়ে যান। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। পুলিশ যেসব কাগজপত্র দেখতে চায় সেসব কাগজপত্র দেখান। তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন এবং সহযোগিতা করুন।

মামলার রসিদ বুঝে নিন-
আপনার গাড়ির কাগজপত্র কোন সমস্যা থাকলে বা ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পুলিশ আপনার গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করে রেখে দিবেন। এবং আপনাকে একটি মামলার রসিদ দেয়া হবে। মামলার রসিদের সবকিছু ভালোভাবে বুঝে নিন। কোন কারণে মামলা দেয়া হলো। কত টাকার মামলা দেয়া হলো। কে মামলা দিলো, কোথায় জরিমানা প্রদান করতে হবে। এই সবকিছুই জরিমানা বা মামলার রসিদে উল্লেখ করা আছে কিনা দেখে নিন

সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ অফিসে যোগাযোগ-
মামলা প্রদানের সময় জরিমানার যে রশিদ দেয়া হয়, সেই রশিদের মধ্যে লিখা থাকে কবে কোথায় গিয়ে জরিমানা প্রদান করে জব্দ করা কাগজ ছাড়িয়ে আনতে হয়। রশিদে উল্লেখিত তারিখ সময় এবং অফিসের ঠিকানা দেখে যথা সময়ে সেই অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
জরিমানা প্রদানের জন্য রশিদের উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসে গিয়ে জরিমানা প্রদান করে, আপনি পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত আপনার কাগজপত্র ফেরত নিয়ে আসতে পারবেন।
তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় যদি মামলা দেয়া হয় তাহলে অনলাইন বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে আপনার জরিমানা প্রদান করতে পারবেন। এই উপায়ে জরিমানা প্রদান করলে জব্দ হওয়া কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিস থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। তবে ঢাকার বাইরে এই সুবিধা এখনো সর্বত্র ভাবে চালু হয়নি।

যদি সঠিক সময়ে জরিমানা না দিতে পারি?
যদি রশিদে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসে উপস্থিত থাকতে না পারেন বা জরিমানা দিতে না পারেন, তাহলে মামলার বিস্তারিত সহ প্রতিবেদন আকারে মামলাটি আদালতে প্রেরণ করা হতে পারে। মামলার বিপরীতে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারে। তাহলে আপনাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে জারিমানা প্রদান করে মামলা থেকে অব্যাহতি নিতে হবে।

পুলিশ যদি কোন কারণে গাড়ি নিয়ে যায়?
আইন ভঙ্গের মাত্রা বা অপরাধের মাত্রা যাচাই করে ট্রাফিক পুলিশ আপনার গাড়িটি আটক করে রেখে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে গাড়িটি আবারো নিজের জিম্মায় নেয়ার জন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে মামলার এজাহারের কপি তুলে নিতে হবে। এর সাথে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপি নিয়ে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে হবে। আইনজীবী বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গিয়ে মামলার নথি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রথম দিনের শুনানি শেষ হলে, আদালত মামলার ইনভেস্টিগেটর এবং বিআরটিএকে গাড়ির মালিকানা নিরূপণের জন্য আদেশ প্রদান করবেন। পাশাপাশি কোন অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তাও যাচাই করে দেখতে বলবেন।
যেহেতু গাড়ি থানায় আটক করা হয়ে থাকে। তাই আদালত থানায় আদেশ পাঠিয়ে দেয়, তারপর থানায় গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে, যেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করে দেন। থানা থেকে প্রতিবেদন আবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আইনজীবী তা পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন। এরপর আইনজীবী একটি সাক্ষরের মাধ্যমে গাড়ির মালিকানা নিরূপণের ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করবেন। এই শুনানির দিন গাড়ির মালিককে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত যদি বিআরটিএ, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন এবং আইনজীবীর শুনানিতে সন্তুষ্ট হয় তাহলে আবার থানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং গাড়িটি মালিকের জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ দিবেন। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে আবার যোগাযোগ করে গাড়িটি নিজের জিম্মায় নিতে হবে। তবে শর্ত থাকবে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তীতে তদন্তের জন্য গাড়িটি আবার থানায় হাজির করতে পারবেন। এভাবে আটক করা গাড়ি নিজের জিম্মায় নিতে ১ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।

সবসময় ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। গাড়িতে সব সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখুন। তাহলে অনেক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এবং দুর্ঘটনা এবং দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।

Comments

Popular posts from this blog

''খতিয়ান'' কি?

খতিয়ানঃ মৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্ত্তত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। এতে ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি, খাজনার হার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে সিএস, এসএ এবং আরএস উল্লেখযোগ্য। ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক।  = সি এস খতিয়ানঃ ১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখণ্ড পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত। . =এস এ খতিয়ানঃ ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। তৎপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে মাঠে না গিয়ে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা এসএ খতিয়ান নামে পরিচিত। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় ব...

দণ্ডবিধির আঘাত সম্পর্কিত কয়েকটি ধারার ব্যাখ্যা নিম্নে দেওয়া হলো

ধারা ৩২৬ (ক) স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুটি চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুটির দৃষ্টির নষ্টকরণ বা মুখমন্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ ধারা ৩২৩ স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানে শাস্তি যে ব্যক্তি, ৩৩৪ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে, সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারদন্ডে যাহার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদন্ডে যাহার পরিমাণ এক হাজার টাকা পর্যন্ত হইতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে। ধারা ৩২৪ স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে আঘাত দান করা যে ব্যক্তি, ৩৩৪ ধারায় ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে, গুলী ছুঁড়িবার, ছুরিকাঘাত করিবার বা কর্তন করিবার যেকোন যন্ত্র, অথবা অন্য যেকোন যন্ত্র, যাহার ব্যবহারে মৃত্যু ঘটাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, অথবা অগ্নি বা উত্তপ্ত বস্তু কিংবা যেকোন বিষ দ্রব্য যাহা নিংশ্বাসের সহিত গ্রহণ করা, গলাধঃকরণ করা বা রক্তে গ্রহণ করা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর, অথবা যেকোন প্রাণীর সাহায্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করে, সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে-যাহার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হইতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।...